ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তুরস্কের

0
13
Israil

আঙ্কারায় নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের গুলিতে ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদলু এজেন্সি।

এদিকে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তুরস্কে তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আঙ্কারা ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) শুক্রবার এক জরুরি বৈঠকের আহ্বান করেছে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বিচার ও গুরুতরও হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার তার রাষ্ট্রদূত সিসা নিগোমবানিকে চলে আসতে বলেছে।

তিনি বলেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের উস্কানিমূলক উদ্বোধনীর প্রতিবাদে হতাহতরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের ওপর যে ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের শক্তিপ্রয়োগের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতিও জানাচ্ছে। জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরে আমরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। জেরুজালেমের বিধিসম্মত মর্যাদার(লিগ্যাল স্ট্যাটাস) ব্যাপারে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজ্যুলেশন মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বার্থে দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতির পক্ষেই বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

গত সোমবার জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভে নামলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর ওপর গাজার আকাশ থেকে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে ইসরায়েলি সেনারা ছুঁড়তে থাকে গুলি।

বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ইসরায়েলি সেনাদের ছোঁড়া টিয়ারশেল আকাশ থেকে পড়তে থাকে বৃষ্টির মতো। এই ঘটনায় হাজারও বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনি গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতের শিকার হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুসহ ৬০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এটাকে বর্বরোচিত আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তুরস্ক এই ঘটনাকে হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জেইদ বিন রাদ জেইদ আল হুসেইন বলেছেন, যারা এই জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।