সরকারি কাজে জিমেইল-ইয়াহু বন্ধ হচ্ছে

0
20
gmail prohibited

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজে জিমেইল, ইয়াহুসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না। এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘গভ ডট বিডি’ (gov.bd) ঠিকানাযুক্ত ই-মেইল ব্যবহার করতে হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব বিধান রেখে ‘সরকারি ই-মেইল নীতিমালা-২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে বিভিন্ন চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেন। এখন সেটি করা যাবে না। সরকারি ডোমেইনের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে আদান-প্রদান করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টে অনেকের ই-মেইল ঠিকানা রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই যোগাযোগ করতে হবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেককেই মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার নামসহ ‘ডট বিডি’ ডোমেইনে একটি ই-মেইল আইডি তৈরি করে সরকারি কাজে মেইল আদান-প্রদান করতে হবে। এ ই-মেইল আইডি তারা শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যক্তিগত বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ই- মেইল সেবা দেবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দুটি করে ই-মেইল আইডি খুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে একটি হবে তার পদবি দিয়ে এবং অন্যটি নাম দিয়ে। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আইডি দুটি দুই ধরনের কাজে ব্যবহার করতে হবে তাদের।
যেসব কর্মকর্তা অবসরে যাবেন বা চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে, তারা পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত ওই নামের মেইল সরকারি যোগাযোগে ব্যবহার করতে পারবেন। এক বছর পর সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড বাজেয়াপ্ত করবে।

জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য নয়। তারা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের জন্য তাদের কর্তৃপক্ষের নিয়মে ই-মেইল ব্যবহার করবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভা ‘কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত, ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’-এর খসড়া নীতিগত, ‘স্ট্যান্ডার্ড ওজন ও পরিমাপ আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তবে ‘আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। এই আইনের খসড়াটি পুনঃপরীক্ষা করে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।