মম মোস্তফার ইউটিউব ট্রাভেল শো ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’

0
51

শখের পরিব্রাজক, সাথে ভালোবাসেন ছবি তুলতে। মডেল ফটোগ্রাফি হোক বা বিয়ের ফটোশুট কোনোদিকেই কম যান না মম। তবে বেশি ভালোবাসেন ভ্রমণের সময় ছবি তুলতে, ভিডিও করতে। এজন্য যেখানে কখনো পা পড়েনি শহুরে ভ্রমণপিয়াসীদের, সেখানেও ছুটে যান মম মোস্তফা, ঘুরে আসেন একা একাই। তুলে আনেন এমন কিছু, যা আগে দেখেনি কেউ।

নিজের এই গহিনে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা, গল্প, ছবি আর ভিডিও নিয়ে মম শুরু করতে যাচ্ছেন তার ইউটিউবভিত্তিক ট্রাভেল শো ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’। নাটাইবিহীন মম’র ইচ্ছেগুলো ঘুড়ি হয়ে উড়ছে সীমাহীন আকাশে। সেই আকাশে তিনি সাথে নিতে চান কোটি কোটি দর্শককে, যারা হয়তো সেখানে কখনো যেতে পারেননি।

মম চান মানুষের মাঝে ভ্রমণের আগ্রহ তৈরি হোক। বিশেষ করে নারীদের মাঝে সৃষ্টি হোক এক নতুন জগৎ, যে জগৎ নিজের গণ্ডির বাইরে, সুবিশাল, রোমাঞ্চকর।

ভ্রমণ বিষয়ে ইউটিউব ভিডিও তো অনেক আছে। ভ্রমণকারীরা নিজেরাই ভিডিও করে তথ্যসহ এখন আপ্লোড করে দিচ্ছেন ইউটিউবে। তাহলে এর মাঝে আর নতুন কী? প্রিয়.কমের অফিসে মম মোস্তফার ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ নিয়ে হয়ে গেল এক জম্পেশ আড্ডা। জানা গেল অনেক কিছু! প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

‘ছবি সবাই তুলছে, ভিডিও করাও এখন সহজ। সবার মাঝেই একটা আগ্রহ থাকে একটা সুন্দর জায়গায় গিয়ে সেই জায়গায় নিজের একটা ছবি তোলার, যে ছবিটি হবে হৃদয়গ্রাহী। কিন্তু ডিএসএল আর সবাই কিনতে পারেন না দামের কারণে। কিন্তু মোবাইল বলতে গেলে সবারই আছে। আমি আমার ভিডিও শো’তে এই শখের ফটোগ্রাফারদের জন্য কিছু সহজ টিপ্স দেব। তাদেরকে জানাব কিছু ছোট ছোট কৌশল, যা ছবিগুলোকে আরও সুন্দর করে তুলবে। ট্রাভেল শো’র পাশাপাশি “ইচ্ছে ঘুড়ি” হবে ফটোগ্রাফারদের কর্মশালাও!’

‘ইচ্ছে ঘুড়ি’র ট্রেইলারটিও সেই কথাই বলে। ছোট্ট একটা ট্রেইলারে ২০টি জায়গাকে নিয়ে এসেছেন মম। আড্ডার ছলে খুবই সাধারণ ভঙ্গিতে হবে তার ট্রাভেল শোগুলো। মনে হবে পর্দায় যাকে দেখছেন, সে আপনার বন্ধু, আপনার মতোই একজন। মম যেই জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে যেতে পারেন আপনিও। কল্পনার রাজ্য নয় সেটা।

কিন্তু ভ্রমণের চমৎকার জায়গা বলতে কি শুধু বনের গহিন? পাহাড়ের ঐ পারে যেখানে কেউ কখনো যায়নি?-না, মম মনে করেন ঘরের কাছেও আছে এমন অনেক কিছু, যা অভিভূত করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের ব্যস্ত চোখ তা দেখতে পায় না। মম বলেন, ‘শুধু সরিষা ক্ষেত কেন? আমরা কেন লাল শাক ক্ষেতে যাই না? গম ক্ষেত, ধান ক্ষেত কোনোটাই কি কম সুন্দর? আমি মানুষকে দেখাতে চাই, তার ঘরের কাছের সেই নদীর তীর, যেখানে বসে এক বিকেলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা যায়। মনকে শান্তি দেওয়া যায়।’

সম্পূর্ণ একার শ্রমে ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ গড়ে তুলছেন মম। অনেক দিনের সাধনা। তিলে তিলে গড়ে সমৃদ্ধ করেছেন তার ভাণ্ডার। নারী হয়েও সানন্দে একা ঘুরে বেড়ান মম। মনে করেন, যেকোনো নারীই যদি সাহস করেন তাহলে একা ঘুরে বেড়ানো কোনো ব্যাপার নয়। ছেলেরা তো একা ঘুরছে, দলবল নিয়ে ঘুরছে। জীবনের আনন্দ উপভোগ করছে প্রাণভরে। আমরা মেয়েরা কেন নিরাপত্তার ভয়ে আটকে থাকব? তার ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ যেন সেই চোখ, যে চোখে দেখা যায় নারীরা দুর্গম পথে একাই পা ফেলতে পারেন। তাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।

মম’র প্রথম ভিডিওটি আসছে আগামী মাসে। সেন্টমার্টিনের সাগরতলের রহস্য ক্যামেরায় তুলে আনবেন তিনি। সাথে জানাবেন পানির নিচে, বিশেষ করে সাগরের নোনা জলের নিচে কাজ করতে চাইলে কী কী করতে হবে ফটোগ্রাফারদের। নিঃসন্দেহে একটি রোমাঞ্চকর অভিযান এটি। আর রোমাঞ্চপ্রিয় মমও চান শুরুটা হোক সবচেয়ে আলাদা। শুভ কামনা তার জন্য।

প্রিয় ভ্রমণ/আজাদ চৌধুরী